রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আব্দুল মতলব’র ব্যাপক গণসংযোগ রায়পুরে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ রায়পুরে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন এড. নয়ন এমপি রায়পুরে করোনা আক্রান্তদের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ উদ্বোধন শোক দিবসে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উপহার দিলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর রায়পুরে ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার চেক বিতরণ

করোনা-কালবৈশাখী বিপর্যয়ে রায়পুরের পান চাষীরা

স্টাফ রিপোর্টার / ১৯৪ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

রায়পুরে পান চাষীদের পান পঁচে যাচ্ছে করোনা ভাইরাসের অঘোষিত লকডাউনে। নতুন করে শুরু হয়েছে কালবৈশাখী ঝড় । আর দুই প্রাকৃতিক দূর্যোগে মাথায় হাত পান বরজ চাষীদের। রায়পুরে পান চাষীদের বরজের পানও পঁচে যাচ্ছে ক্রেতা ও পরিবহনে সংকটে। রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলে পান ব্যবসায়ীদের পানের বাম্পার ফলনে এবং দাম বেশী পাওয়ায় মুখে হাসি ফুটছে পান সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীদের গতমাস থেকে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে সরকারের অঘোষিত লকডাউনে বিপর্যস্ত পান চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা কোন রকমে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পানের বান্ডিল নিলেও পাইকার না থাকায় চালান উঠছে না বলে জানান পান ব্যবসায়ীরা।
রায়পুর উপজেলায় বছরে পান বিক্রি হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার। এ পান জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখানীসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে।পানের মান এবং চাহিদা থাকায় প্রবাসেও সুখ্যাতি ছড়াচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী জানান, পান নিয়ে আমাদের নানা সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু কৃষি বিভাগের কোন কর্মকর্তার মুখ আমরা দেখিনা। তারা আমাদের সঠিক পরামর্শ দিলে পান চাষ এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদল করে দিতে পারে। করোনা ভাইরাসে আমাদের কাছে কৃষি কর্মকর্তারাও আসেনি, সহযোগিতাও করেনি।
দীর্ঘদিন যাবৎ পান ব্যবসার সাথে জড়িত সোলাখালী ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা আঃ জাব্বার বলেন, রায়পুর থেকে অনেক প্রতিষ্ঠিত পান ব্যবসায়ী পান সংগ্রহ করেন। এ অঞ্চলে বানিজ্যিকভাবে পান চাষ খুলে দিয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বার। প্রতি শনি ও বুধবার লক্ষ্মীপুরের সবচেয়ে বড় পান বাজার বসে হায়দরগঞ্জ এলাকায়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীরা আগের রাত থেকে হায়দরগঞ্জ বাজারে আসেন। এছাড়াও রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় প্রতি শুক্র ও সোমবার পানের বাজার বসে। বাজারের দিন ব্যবসায়ীরা চাহিদামত পান সংগ্রহ করার পর সড়কপথে পিকআপযোগে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে সরকারের সিদ্ধান্তে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানান।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রায়পুরে ৩০৫ হেক্টর জমিতে ১৬’শ ২০ বরজে পান চাষ হয়। প্রতি হেক্টর জমির পান উৎপাদন হয় প্রায় ৮ হাজার পোন (৮০পিস)।উৎপাদন খরচ হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। বর্তমান বাজারে ভালো মানের প্রতি বিড়া (৭২ পিচ) পান বিক্রি হয় ১৫০ টাকা। এ হিসেবে রায়পুরে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার পান উৎপাদন হয়। তবে বেসরকারি হিসেবে পানের উৎপাদন হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকার। উপজেলার উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে পানের আবাদ বেশী হয়।‘পানপল্লী খ্যাত ক্যাম্পের হাট এলাকার পান চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পানের উৎপাদন ভালো হয়। এসময় উৎপাদিত পানের সাইজও বড় হয়। অতি শীত, ঘন কুয়াশা ও ক্ষেতে পানি জমে থাকলে পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়। একটি বরজ ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে মাঝে মধ্যে সংস্কার করতে হয়।এছাড়াও বর্তমানে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ার কারনে পানের বরজের আবাদ কমে আসছে। শুস্ক মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় পানি সেচ দিয়েও পান গাছ রক্ষা করা যায় না। এমন অবস্থায় যদি পান চাষাবাদে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে কৃষক।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরীন চৌধুরী  বলেন , করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের সিদ্ধান্তে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এটা সত্যি। তবে পান চাষিদের কি ভাবে সহযোগিতা করা যায় তা নিয়ে কৃষি কর্মকর্তার সাথে বসে পরিকল্পনা করবো। পান চাষীদের পাশে সরকার সব সময় আছেন বলেও জানান।
-ল/আ,মো.ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ