রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আব্দুল মতলব’র ব্যাপক গণসংযোগ রায়পুরে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ রায়পুরে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন এড. নয়ন এমপি রায়পুরে করোনা আক্রান্তদের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ উদ্বোধন শোক দিবসে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উপহার দিলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর রায়পুরে ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার চেক বিতরণ

রায়পুরে মাহফুজা হত্যায় জড়িত ৩ জনকে আটক, পুলিশের সাফল্য

মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ / ৩৯৬ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বৃদ্ধাকে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেয়ার রহস্য উদঘাটনে  রায়পুর থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) শিপন বড়ুয়ার নেতৃত্বে মাহফুজা হত্যার সাথে জড়িত ৩ জন আটক।
যদিও মামলাটি হস্তান্তর  করা হয়েছে  পিবিআই এর কাছে। এ ঘটনায় প্রেমিক যুগল সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৬ নং কেরোয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
জবানবন্দিতে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২ নং ওয়ার্ডের আমিন উদ্দিন মুন্সি বাড়ির মোঃ জাকির হোসেনের ছেলে ইমন (১৭) একই বাড়ির মোঃ আক্তার হোসেনের মেয়ে আসমা আক্তার আয়েশা (১৭) নামের এই দুই তরুণ-তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের প্রেমকে সফলতার রূপ দিতে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থ সঙ্কট। অর্থ সঙ্কট কাটাতে প্রেমিকার বাড়ীর মাহফুজা খাতুনের (৫৫) স্বর্ণালংকার লুটে নেয়ার ফন্দি করে তারা।
পরিকল্পনার দুইদিন পর ইমন ও আজিজ (১২) বৃদ্ধা মাহফুজার বাড়ির পাশে ওঁৎ পেতে থাকে। ঘটনার দিন (১৬ অক্টোবর ২০১৯) হাঁটতে বের হলে ইমন মাহফুজাকে তাদের ঘরে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে ইমন ও আজিজ তার গলায় গামছা পেঁছিয়ে হত্যা করে। পরে বস্তাবন্দী করে লাশ রান্না ঘরের পেছনের বাগানে পেলে দেয়। বৃদ্ধার ছেলেরা খোঁজাখুঁজি করেও মাকে পাচ্ছিল না। এসব দেখে ইমন ও আজিজ পরিকল্পিতভাবে বস্তাবন্দী লাশ টেনে নিয়ে পাশ্ববর্তী খালে পেলে দেয়। পরে (১৭ এপ্রিল) পুলিশ বস্তা টেনে নেয়ার চিহ্ন দেখে খাল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
রায়পুর থানার ইনস্পক্টের (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া জানান, বৃদ্ধা মাহফুজার হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন ছিলো ইমন ও আজিজ। ঘটনার দিন থেকেই তারা পলাতক ছিলো। কিন্তুু হুট করে মামলাটি নিহত বৃদ্ধার ছেলে পিবিআইতে নেওয়ার অনুরোধ করলে মামলাটি তাদের অধীনে চলে যায়। আসামীদের আটকের বিষয়ে তিনি জানান, কেরোয়া এলাকায় টাকা চুরি নিয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজিজকে আটক করে জনতা। পরে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলে আজিজকে চিনে ফেলে পুলিশ। এই সময় আজিজ টাকা চুরির ঘটনা শিকার করে। পরে আমাদের অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজা হত্যাকাণ্ডের কথাও শিকার করে সে। হত্যাকাণ্ডের সাথে আজিজ যাদের নাম বলে তারা হচ্ছিল ইমন ও আসমা। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় পুরো চক্রকে আমি সহ রায়পুর থানার এসএআই আরাফাত সহ ফোর্স তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. জহিরুল হকের কাছে আসামীদের হস্তান্তর করি।
নিহত বৃদ্ধার ছেলে  সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল ওয়াদুদ শিপন বলেন, আমার মায়ের হত্যাকাণ্ডে কোন অগ্রগতি না পেয়ে মামলাটি পিবিআইকে তদন্ত করার জন্য পুলিশ হেডকোয়াটার্স এ আবেদন করি। পিবিআই এর তদন্তে মায়ের হত্যার রহস্য উদঘাটন হলো। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি। তবে রায়পুর থানার ইনস্পক্টের (তদন্ত) ধন্যবাদ যে তিনি তাদেরকে আটক করতে পেরেছেন। আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কামনা করি আদালতের কাছে।
পিবিআই নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বসু দত্ত চাকমা বলেন, আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন। আসামীদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।