শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আব্দুল মতলব’র ব্যাপক গণসংযোগ রায়পুরে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ রায়পুরে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন এড. নয়ন এমপি রায়পুরে করোনা আক্রান্তদের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ উদ্বোধন শোক দিবসে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উপহার দিলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর রায়পুরে ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার চেক বিতরণ

লক্ষ্মীপুরবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এসপি জামিল আহমেদ

অনলাইন সম্পাদনা / ৬৮৭৭০৪ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

সময়টা ছিল তখনকার যখন বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর ছিল সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সন্ত্রাসের ত্রাসে প্রতিদিনই শিরোনাম হতো এ জেলার বিভিন্ন ঘটনা। ১/১১ এর সময়ে সেনাবাহিনীর তৎপরতায় অনেকটাই শান্তি ফিরে আসছে এ জেলায়। কিন্তু বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম ও মাদকের আগ্রাসন ছিল এখানে। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন জামিল আহমেদ বিপিএম, পিপিএম। সরকারি দায়িত্বের বাহিরে নিজ প্রচেষ্টায় একটি জেলার মানুষের শান্তির লক্ষ্যে ও জনগণের সেবায় নিজকে নিয়োজিত রাখাসহ বিভিন্ন অবদান রাখায় বিদায়ের মূহুত্বে জনতার হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া সেই পুলিশ সুপারকে নিয়েই আজকে আমার লেখাটি। তাই আমার দৃষ্টিতে পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ স্মরণকালের সেরা পুলিশ সুপার।

নারিকেল সুপারী আর সয়াবিনের খ্যাত এই জেলাটি দেশের দক্ষিনাঞ্চলের একটি জেলা। রাজনীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশ বিদেশে অবদান রেখে আসছেন এই জেলার বহু বরেণ্যগণ। অতিথি প্রিয় ও ধর্মভক্ত এই জেলার মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়। বিগত সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বাহিনী। এইসব বাহিনীর তান্ডবে জেলার সদর ও রামগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা ছিল সন্ত্রাসের অভয়রাণ্য। বিগত সময় ধরে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ প্রাণপ্রণ চেষ্টা করে আসছেন শান্তি ফিরিয়ে আনতে।

লক্ষ্মীপুরে যোগদানের পরপরই মাদক ও সন্ত্রানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেন নবাগত পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ বিপিএম, পিপিএম। নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করে স্বাভাবিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতেও সক্ষম হয়। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভিগ্নে জীবনযাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে সকল থানাকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। থানাকে জনগনের সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ও পুলিশকে জনবান্ধব করার প্রচেষ্টায় তিনি সফলও হয়েছেন। টাকা ছাড়া সেবা নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসমূক্ত এলাকা ও পুলিশি সেবা নিশ্চিত করে জনগণের হৃদয়েও স্থান করে নিয়েছেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের সন্ত্রাস এলাকা হিসেবে পরিচিত ইউনিয়নগুলিতে কঠোর অভিযান ও কর্মকান্ডের কারণে শান্তিতে পরিণত করতে পেরেছেন তিনি।

 

জামিল আহমেদ লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে দেশের প্রাচীন জেলা পাবনায় কর্মরত ছিলেন। অত্যন্ত সুণামের সাথে দায়িত্ব পালনের ঠিক একসময় সরকারি নিয়মানুসারে তিনি লক্ষ্মীপুরে বদলি হন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় গফরগাও উপজেলায়। পুলিশ সুপার হিসেবে অবদানের ফল হিসেবে তিনি ২০০৭-২০০৮ সালে জাতিসংঘ মিশনেও অংশগ্রহণ করেন যা একটি গৌরবময় বিষয়। এছাড়াও তিনি থাইল্যান্ড ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষনও গ্রহণ করেন।

লক্ষ্মীপুরে আসার পর অন্যান্য পুলিশ সুপারের চেয়ে তিনি ছিলেন একটু বেশি মিশুক। সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে তিনি মিশে গেছেন। জেলার আইনশৃংখলার জন্য তিনি ছিলেন খুবই উদ্বিগ্ন। তার এই উদ্যোগের ফলেই এই জেলায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক বহুলাংশেই লোপ পেয়েছে। যা খুবই সহজ কাজ নয়। পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ এতই সাদা মনের মানুষ ছিলেন যে, যেসব মানুষ একজন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যেতে ভয় পেতেন। তারা পর্যন্ত অনায়াসে এই মহান ব্যক্তির নিকট তাদের সমস্যার কথা বলতো এবং সমাধান পেতেন। তিনি শুধু জেলার সাধারণ মানুষের নয়, তার অধিনস্থ পুলিশদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ( পুলিশ লাইনে গ্যাস সংযোগ, বাংলোর বিভিন্ন কাজ), তাদের অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সদস্যদের কল্যানার্থে নিয়েছেন ব্যাপক উদ্যোগ, করেছেন উন্নয়ন। মিষ্টভাষা ও সরল জীবনযাপনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি জনগণের মনও তিনি জয় করতে পেরেছেন। একজন পুলিশ সুপার এতে ক্ষমতা থাকার পরও মানুষের সাথে নিরহংকার ভাবে কথা বলতেন ও চলাফেরা করতেন তাই মানুষের আকৃষ্ট করেছে।

ছবিতে জামিল আহমেদ। ক্লিক করে দেখুন



২০০৯-২০১০ সাল সময়ে আমি লক্ষ্মীপুর ওয়েব নামে একটি ( প্রথমে ভোরের শিশির) নামে একটি অনলাইন পোর্টাল চালিয়েছিলাম। জেলার ২৪ ঘন্টার আপডেট সংবাদ নিয়ে এই নিউজ পোর্টালটি পরিচালনা করার পেছনে পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ এর সহযোগিতা, অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা যথেষ্ট ছিল। যে কোন সময় সংবাদ সংগ্রহ বা যেকোন কাজে দেখা কিংবা ফোন কলে তিনি সহযোগিতা করতেন। বিভিন্ন সময়ে উপদেশ ও অনুপ্রেরণায় তখনকার লক্ষ্মীপুর ওয়েব নিউজ পোর্টাল সারাদেশে মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সাধারণ মানুষের জন্য তার দরজা ছিল সবসময় খোলা। একজন পুলিশ সুপার হিসেবে কখনোই কাউকে সাক্ষাৎ না দিয়ে ফেরত দিতেন না তিনি। জনগণ মনের কথা খুলে বলতেন ও আইনী সহযোগিতা পেতেন তার চাক্ষুস প্রমাণ লক্ষ্মীপুর ওয়েব কর্তৃপক্ষ। তিনি মানুষের আগমন কিংবা বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগে কখনো ব্যস্ততা, রাগ বা কোন অনিহা প্রকাশ করেনি। তিনি তার সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন সেবা প্রদানের জন্য। জেলার পুলিশদের কোন প্রকার দুর্ণীতি, জোরজুলুম তিনি কখনো সহ্য করতেন না। তিনি বিভিন্ন ওপেন হাউজডে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মানুষের সমস্যার কথা বলার জন্য নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারও দিয়েছেণ যা অত্যন্ত মহৎ কাজ।

এই জেলার একজন জনগণ হিসেবে অত্যন্ত গর্বিত ও দু:খের সাথে স্মরণ করছি সেই পুলিশ সুপার জামিল আহমদকে। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বলতে পারি জনগণের দোয়ায় আপনি সম্মানিত হয়েছেন। এই জেলা থেকে আপনার বিদায়ের বেলায় অসংখ্য সংগঠনের ব্যানারে বিদায় সংবর্ধনা ও হাজার উপস্থিত মানুষের অশ্রু আপনাকে বুজিয়ে দিয়েছে আপনি কতটা জনপ্রিয় ও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। আপনার বদলী সংবাদে লক্ষ্মীপুর ওয়েব পরিবারের সাথে এজেলার জনগণ ব্যথিত হয়েছে।

প্রিয় সাবেক পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ স্যার, আপনি এই জেলা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে বদলী হয়েছেন। সেখান থেকে আবার পাবনা জেলায় ২য় বারের মত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। পদোন্নতি পেয়ে এডিশনাল ডিআইজি হয়ে র‌্যাবের সিও, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার, ডিআইজি হয়ে ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সর্বশেষ সিআইডির ডিআইজি (সাইবার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এতোগুলো দায়িত্ব পালন করে পুরস্কার হিসেবে সরকারের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সেই সাদা মনের মানসিকতা রয়েই গেছে। এই সাদা মনের মানসিকতা আপনাকে একদিন পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা।

প্রিয় স্যার, আপনি লক্ষ্মীপুর থেকে বিদায় নিয়েছেন কিন্তু লক্ষ্মীপুরের মানুষ আপনাকে ভুলে নাই। আপনি জেলার শান্তির লক্ষ্যে যে শ্রম, মেধা বিনিয়োগ করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সাল পরবর্তিতে পুলিশ সুপারগণ পূর্বাঞ্চলের সন্ত্রাস পরিপূর্ণ নিমূল করতে পেরেছেন। আপনার ভালোবাসার লক্ষ্মীপুর এখন শান্তির জনপদ। এর কৃতিত্ব অনেকটাই আপনার। কারণ আপনিই শুরু করেছেন এবং সফলও হয়েছেন।

আল্লাহ আপনার ও আপনার পরিবারের মঙ্গল করুন। আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ। আপনি লক্ষ্মীপুরের স্মরণকালের সেরা পুলিশ সুপার।


লেখক :
মো: নজরুল ইসলাম দিপু
সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর ওয়েব
মূল লেখা : ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১০
সংযোজন : ১৮ জানুয়ারী ২০২১

Print Friendly, PDF & Email