শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
বিনামূল্যে আরজু মনি অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করলেন এমপি নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এশিয়ার বৃহৎ মৎস প্রজনন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন রায়পুরে ১৩৯ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত খাদ্য বিতরণ অব্যাহত আছে -এড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুরের ১০ ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করেন এডভোকেট নয়ন এমপি লক্ষ্মীপুরে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন এডভোকেট নয়ন এমপি রোটারি ক্লাব অব লক্ষ্মীপুর এর ইয়ার এন্ডিং মিটিং অনুষ্ঠিত এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের এডভোকেট নয়ন লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এডভোকেট নয়ন বিজয়ী রায়পুরে যুবলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

লক্ষ্মীপুরে দুর্ণীতিমুক্ত ও স্বচ্ছতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এলজিএসপির ৬ কোটি টাকার ২৭৮টি প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার / ৮১৫০ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরে দুর্ণীতিমুক্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে জন অগ্রাধিকারভুক্ত এলজিএসপি-৩ এর প্রকল্পগুলি। জেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকি ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের একাধিকবার পরিদর্শনসহ কাজের মান নিশ্চিত করে চলতি অর্থ বছরে জেলার ৫৮টি ইউনিয়নে ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার ২৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কোন অনিয়ম যাতে না হয় সেজন্য বিগত ২ বছর ধরে প্রতিটি প্রকল্প তদারকি ও শতভাগ মান যাচাইয়ে প্রতিদিন জেলার এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তের প্রকল্প পরিদর্শনে যাচেছন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়া। এছাড়াও জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর মো: রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এ প্রকল্প অনিয়ম ও দুর্ণীতিমুক্ত ভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য শতভাগ সচেষ্ট আছেন।

লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) প্রকল্পে এ জেলায় মোট ৬ কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮০ টাকা, রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ কোটি ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ টাকা, রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার ১৪০ টাকা, রামগতি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৭৮ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩১ টাকা ও কমলনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ৭১টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বিভিন্ন মেয়াদে রাস্তা নির্মাণ, কালভার্ট, ব্রিজ, ড্রেন, গভীর নলকূপ স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংস্কার, বনায়নসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানমূলক ২৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারের অর্থ দিয়ে জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে এসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প শতভাগ মান বজায় রেখে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সরেজমিনে তদারকি করে আসছেন। এছাড়াও বিগত অর্থ বছর থেকে এ প্রকল্পগুলি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভুইয়ার কঠোর তদারকিতে অনিয়মমুক্ত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবগণ।

ইউপি সচিব মো: তছলিম উদ্দিন জানান, জিপিএস অ্যাপের মাধ্যমে এখন এলজিএসপির প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প একাধিকবার ছবি তুলে আপলোড করতে হয়। লক্ষ্মীপুরে এ প্রকল্পে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। আমরা দুর্ণীতিমুক্ত প্রকল্প বাস্তয়নে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক সচেষ্ট রয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও মানসম্মত ভাবে এলজিএসপির কাজ বাস্তবায়ন করতে হয়। ডিজাইন অনুযায়ী ঠিকাদার কিংবা প্রকল্প কমিটিকে কাজ করতে হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডিএলজিসহ জেলা প্রশাসনের কঠোর তদারকির কারণে এ প্রকল্পের কাজ শতভাগ অনিয়মমুক্ত ভাবেই হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মীর শাহ আলম জানান, এলজিএসপির যে কোন প্রকল্প কাজ শুরুর আগে, কাজ চলা অবস্থায় ও কাজ শেষে ৩বার জিপিএস লোকেশনসহ ছবি আপলোড করতে হয়। এতো তদারকির পরে কোন দুর্ণীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। এই প্রকল্পের যে কোন কাজ টেকসই ও মানসম্মত হয়ে থাকে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সেবা প্রদানের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী কার্যকর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০০০ সালে শুরু হয় ‘সিরাজগঞ্জ লোকাল গভর্ন্যান্স ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রজেক্ট (এসএলজিডিএফপি)’। এ প্রকল্পে সফল হওয়ার পরে দেশব্যাপী সকল ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে জুলাই ২০০৬ হতে জুন ২০১১ পর্যন্ত (এলজিএসপি-২) ও ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত এলজিএসপি-৩ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নকাজ কেমন হচ্ছে, তার অগ্রগতি কতটা, বরাদ্দ কত? এমন নানা বিষয়ে তথ্য জানার জন্য ‘এলজিএসপি গো’ নামের একটি অ্যাপ চালু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ অ্যাপের মাধ্যমে ইউপি সচিবগণ প্রকল্প শুরু থেকে শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে জিপিএস লোকেশনসহ ছবি আপলোড করে প্রকল্পের বিশদ বিবরণ দিতে হয়। দেশের ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।