সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
রায়পুরে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ রায়পুরে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন এড. নয়ন এমপি রায়পুরে করোনা আক্রান্তদের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ উদ্বোধন শোক দিবসে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উপহার দিলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর রায়পুরে ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার চেক বিতরণ রায়পুর হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার বিতরণ করলেন এমপি নয়ন শেখ কামাল ক্রীড়ায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রদ্রত-এড. নয়ন এমপি

জনগণের প্রতিনিধির পরিচয় দিলেন সালাহ উদ্দিন টিপু

স্টাফ রিপোর্টার / ৫১৪ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

সাধারণত জনপ্রতিনিধি বলতে জনগণের প্রতিনিধি বা জনমানুষের সমর্থন নিয়ে একটি এলাকা বা গোষ্ঠির নেতৃত্ব দেওয়াকে বোঝায়। ওই এলাকার মানুষের সুখ-দুখ, সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিনি ভাববেন, কাজ করবেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পেক্ষাপটে জনগণের সমর্থন নিয়ে জনপ্রতিনিধি ঠিকই হন কিন্তু কাজে কর্মে জনগনের প্রতিনিধির পরিচয় কেউ দিতে পারেনা। আবার ওই জনগণও নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে মন থেকে মেনে নিতেও পারেননা।

কারণ আমাদের এই দেশে ৫ বছরের জন্য জনগণের ভোট নিয়ে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। এইসব জনপ্রতিনিধিরা ভোটের আগে জনগণের পাশে আসেন নির্বাচিত হয়ে তাদের নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যস্ত থাকেন। আবার ভোটের সময় জনগণের পাশে যান। এভাবেই চক্রাকারে চলে এই ভোট দেওয়া নেওয়ার খেলা। এতে মানুষ ভুলেই গেছে তাদের জনপ্রতিনিধিদের কাজ কি বা তারা কি কাজ করেছেন। আবার জনপ্রতিনিধিরাও রুটিন মাপিক কিছু কাজ সরকারী দায়িত্ব পালন করেই তাদের কাজের বা জনগণের প্রতি দায়িত্বের শেষ দেখান।


আর এ পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফল আসে যখন ওই জনপ্রতিনিধির নির্বাচন এলাকার মানুষের বিপর্যয় কিংবা মহামারি অবস্থায়। কারণ তখন জনপ্রতিনিধিরা যদি জনগণের জন্য কিছু করতে পারে সেই ব্যক্তিই মানুষের মন জয় করে ফেলে। তিনি হন জনগণের প্রতিনিধি।

আজকের বাংলাদেশে এমন জনপ্রতিনিধি পাওয়াই দুস্কর। আর এমন একজন জনপ্রতিনিধি হলেন লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। যিনি বিশ্বব্যাপী মহামারী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসে যখন মানুষ দিশেহারা। মরণঘাত এই ভাইরাস মোকাবেলায় যখন সরকার তথা বিশ্ব মরিয়া। ঠিক তখনই এ জনপ্রতিনিধি মানুষের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাড়িয়েছেন। শুধু তাই নয় নির্বাচিত এলাকার মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করা, সরকারী নির্দেশনা মানাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মকান্ড করে প্রকৃত জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।


লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ২ বারের চেয়ারম্যান এ জনপ্রতিনিধি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু। জেলা যুবলীগের সভাপতিও তিনি। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশ সরকার এ ভাইরাস মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে আছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত নির্দিষ্ট দোকান ছাড়া সকল প্রকার দোকান বন্ধ, বাজার বন্ধ, সাধারণ ছুটি ঘোষনা ও মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। আর এসময় করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ঘরে থাকা, প্রবাসী কেউ আসলে তাকে কোয়ারেন্টিন এ থাকা, সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সালাহ উদ্দিন টিপু এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য গত ১ মাস ধরে দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কর্মহীন ও ঘরে থাকা দরিদ্র অসহায়, মধ্যবিত্ত ও নিম্মমধ্যবিত্তদের খাওয়া নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত ভাবে রাতের আধারে ঘরে ঘরে গিয়ে খাওয়া পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও তিনি তার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পুরো উপজেলায় দরিদ্র অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছিয়েছেন।


জেলা শহরসহ উপজেলার সকল বাজার বন্ধ ও দোকানপাট যাতে না খুলতে পারে সেজন্য নিজে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে সচেতনতা করে আসছেন। তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রতিনিয়ত ঘরে থাকা ও খাদ্য পৌঁছানোর জন্য পোস্ট দিয়ে আসছেন।

এছাড়াও এই কঠিন সময়ে সকল যানবাহন বন্ধ থাকায় ও ভাইরাসের ভয়ে যারা হাসপাতালে আসতে পারবেন না তাদের জন্য ঘরে থেকে ডাক্তারি সেবা নিশ্চিত করতে জেলা যুবলীগের উদ্যোগে তিনি ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম এর ব্যবস্থা করেন। যাতে ডাক্তার রোগীর বাড়িতে গিয়ে সেবা করতে পারে। যা মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মন্তব্য উপজেলাবাসীর।

সামাজিক দুরুত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে দোকানের সামনে বৃত্ত করে দেন যাতে জনসমাগম না দেখায় ও ভাইরাস না ছড়াতে পারে। এছাড়াও শহরের মানুষের মাঝে হ্যান্ডসানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ করেন তিনি। বিভিন্ন পেশার লোকজন যারা সরকারি দায়িত্ব পালন করেন তাদেরকে পিপিই প্রদান করেন।

প্রশাসনের মতই তিনি অলিগলিতে গিয়ে দোকান বন্ধের জন্য বলে আসতেছেন। মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেজন্য অনুরোধ করে আসছেন। এভাবে প্রতিদিন স্যোসাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন ভাবে মানুষকে ঘরে থেকে মহামারী ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে অনুরোধ করেন।


লক্ষ্মীপুর জেলায় আজ পর্যন্ত কোন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি। আর যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাট বাজারে, বাড়ি বাড়িতে গিয়ে মানুষকে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এটিই হচ্ছে নিজ এলাকার জন্য প্রেম।

বর্তমান এ কঠিন সময়ে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়া রাজনৈতিক কোন নেতৃবৃন্দ মাঠে নেই। মরণঘাত এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সবাই এলাকাছাড়া। আর এ সময়েই একজন জনপ্রতিনিধি যিনি প্রকৃত জনপ্রতিনিধির ছেয়েও বেশি দেখিয়েছেন তাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার জনগণ সন্তুষ্ট।

তার এ কর্মকান্ডে মানুষজন বলেন, এ সময়ে বিপদে কাউকে পাওয়া দুস্কর। সাধারণ মানুষজন ও রাজনৈতিক কিছু ব্যক্তি ত্রান সামগ্রী বিতরণ করছেন। সচেতনতামূলক লিপলেট বিতরণ করছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছেননা। এসময় সালাহ উদ্দিন টিপু মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে মনে স্থান করে নিয়েছে। তিনি সবসময় মানুষের বিপদে সাথে থাকবেন এ আশা ব্যক্ত করেন উপজেলাবাসী।

এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আবু তাহের’র ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বণিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত।

Print Friendly, PDF & Email