সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
রায়পুরে বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৫ লাখ টাকার চেক বিতরণ রায়পুরে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধন করলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর উপজেলা ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধন করেন এড. নয়ন এমপি রায়পুরে করোনা আক্রান্তদের মাঝে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ উদ্বোধন শোক দিবসে লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উপহার দিলেন নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি রায়পুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর রায়পুরে ক্ষতিগ্রস্থ উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর প্রনোদনার চেক বিতরণ রায়পুর হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিমিটার বিতরণ করলেন এমপি নয়ন শেখ কামাল ক্রীড়ায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রদ্রত-এড. নয়ন এমপি

৪’শ কোটি টাকার সয়াবিন ভাসছে পানিতে!

মোহাম্মদ ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ / ৩৬২ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে কাল বৈশাখীর অতি বৃষ্টিতে সয়াবিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।  হঠাৎ ঝড়ে শস্য ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে কৃষকের স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কালবৈশাখীর মুষলধারে কয়েকদিনের শিলা বৃষ্টি ম্লান করে দিয়েছে কৃষকের স্বপ্ন। পাশাপাশি এ উপজেলায় উপকূলীয় অঞ্চলে গাছপালা ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার প্রায় ৭ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে সয়াবিনের চাষ করা হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে এসকল ফসলের ৬০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। টানা  তিনদিনের বৃষ্টিতেই সয়াবিন পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে।

উপজেলার উপকূলীয় চরলক্ষী, মিয়ারহাট, কানি বগার চর, চরবংশী, জালিয়ার ও বেঁড়িবাধের বাইরের এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

এছাড়া বেঁড়িবাধের দু’পাশের কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটি পড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকবল সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না বলে জানান বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা উপলকূলবর্তী অঞ্চলে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ ৫টি চর ও ৪টি ইউনিয়নে হাজার হাজার একর জমিতে সয়াবিনের চাষ হয়। জেলার ব্র্যান্ডিং পন্য সয়াবিনের এবার বাম্পার ফলনের পর অতিবৃষ্টিতে পচন ধরেছে রয়েছে বলে জানা গেছে। চর ইন্দুরিয়া, কানিবগারচর, জালিয়ারচর, চরঘাশিয়া, চর কাচিয়ার চরে এবং উত্তর চর আবাবিল, দক্ষিন চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী ও দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নে এবার সয়াবিনের প্রচুর ফলন হওয়ার কারনে এখানকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছিলো কিন্তুু কালবৈশাখী ঝঁড়ে এখন শুধু হাহাকার।  হাজার হাজার একর জমিতে চাষ হওয়া সয়াবিনের সবুজ চারা যেন নতুন এক আবহের সৃষ্টি করেছিলো। বর্তমানে এটি রায়পুর উপজেলার প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে পরিচিত। ফলে এখানে সয়াবিনের চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো।সয়াবিন চাষ দিন দিন বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় উৎপাদনের প্রায় ৭০ ভাগ সয়াবিন লক্ষ্মীপুর জেলায় উৎপাদিত হচ্ছে। সর্বপ্রথম একসাথে ১৯৮২ সালে এ জেলার রামগতি উপজেলায় মাত্র ১ হেক্টর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সয়াবিনের চাষ করা হয়। এরপর ১৯৯২ সালে এমসিসি ও ডর্প নামক দুটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সয়াবিন চাষে কৃষকদেরকে ব্যাপক উদ্বুদ্ধ করে। তখন থেকেই ধীরে ধীরে অন্য রবি ফসলের সাথে সয়াবিনের আবাদ বৃদ্ধি পেতে থাকে। উৎপাদন খরচ কম, ভালো দাম ও ফলন পাওয়ায় বর্তমানে জেলার চাষীরা অন্য রবি শস্যের পরিবর্তে দিন দিন সয়াবিন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুরে মোট ৭ হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর। প্রতিবছর এ উপজেলায় সয়াবিন মৌসুমে ৪০০ কোটি টাকার সয়াবিন বেচাকেনা হয়। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের কারনে এর মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও জানা গেছে।কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস হলো সয়াবিন আবাদের উপযুক্ত সময়। সার ও কীটনাশক তেমন দিতে না হওয়ায় এবং আগাছা কম থাকায় এর উৎপাদন খরচও অনেক কম। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাকা সয়াবিন ঘওে তুলতে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন এখানকার ব্যবসায়ী, মজুর ও কৃষকরা। উপজেলার কয়েকটি বাজারসহ হায়দরগঞ্জ বাজারে দেশের উৎপাদিত ৭৫ ভাগ সয়াবিন এখানে কেনাবেচা হয়। সয়াবিনকে কেন্দ্র করে হায়দরগঞ্জ বাজারে পাঁচটি চাতাল ও ৬০-৭০টি পাইকারী দোকান গড়ে উঠেছে। এছাড়া হাজীমারা, আখনবাজার, মোল্লারহাট ও খাসেরহাটে ২৫-৩০টি পাইকারী দোকানে সয়াবিন কেনাবেচা হয়। টানা ৪দিনের কালবৈশাখী ঝঁড়ের অতিবৃষ্টিতে ধানের পর সয়াবিনে পঁচে যাচ্ছে।

ঝাউডগী গ্রামের কৃষক সৈয়দ আহম্মদ বলেন, এলাকার থেকে ধারকরজ নিয়ে ২ একর জমিতে সয়াবিনের চাষ করি। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রচণ্ড ঝড় আর শিলা বৃষ্টিতে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। কিভাবে এই ধারকরজ পরিশোধ করবো তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এছাড়াও তিনি বলেন সরকারি কোন সাহায্য বা কোন পরামর্শ আমি কোন দিন পাইনি। নিজের মত করে চাষ করি।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হোসেন শহীদ সরোওয়ার্দী বলেন, কালবৈশাখীরই ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র জানতে আমরা চেষ্টা করছি। শিলা বৃষ্টির পরপরই আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্নভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কৃষকদের সহায়তা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।